Wednesday, July 8, 2020

”টাকা ছাপানোর মেশিন পেলে ইচ্ছা মত টাকা ছাপাতাম”





অর্থকে আমরা অনর্থের মূল হিসেবে জানি। আসলে বাস্তবে কতটা যৌক্তিক। বর্তমান সময়ে আমরা দেখি, ক্ষমতা, সম্মান এমনকি আত্মমর্যাদা সব কিছুই টাকার অর্থে যাচাই করা হয়।

এখন আসি মূল বিষয়েঃ
  • ১. আপনাকে একটি টাকা ছাপানোর মেশিন দিলে আপনি কি করবেন? নিশ্চয়ই টাকা ছাপাবেন! এবং কোটিপতি হয়ে যাবেন এটাইতো। আসলে আপনি কি জানেন, ইচ্ছামত টাকা ছাপানাের ফলে কোটিপতি নয় বরং আপনি গরীব হতে থাকবেন। কি বিশ্বাস হচ্ছে না তো?
  • ২. একটি দেশের সরকার চাইলে এই করোনা মহামারীতে ইচ্ছেমত টাকা ছাপিয়ে অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান করতে পারে। বিষয়টা  একেবারেই যৌক্তিক নয়।
অভ্যন্তরীন সম্পদের সাথে ভারসাম্য রেখে একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নোট/টাকা ছাপায়।

ইচ্ছামত টাকা ছাপালে একটি দেশ কখনো উন্নত হয় না বরং মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যায়। সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি বলতে আমরা বুঝি পণ্য বা সেবার মূল্য বেড়ে যাওয়া। এবং সেই সাথে টাকার মান/মূল্য কমে যায়। 
উদাহরণ হিসেবে বলতে গেলে, মনে করি একটি দেশের মোট জনসংখ্যা ১০০জন। এবং সবাই মিলে ৫০০কেজি পিয়াজ উৎপাদন করে। এবং পিয়াজের মোট মূল্য ২০০০০টাকা। বলা যায় দেশটির মোট সম্পদ ৫০০কেজি আর মোট টাকা ২০০০০। সেক্ষেত্রে প্রতি কেজি পিয়াজের মূল্য দিতে হবে ৪০টাকা। এখন সেই দেশের সরকার টাকা ছাপিয়ে টাকার মান দ্বিগুন করলে তাহলে মূল্য দাঁড়াবে  ৪০০০০টাকা। কিন্তু ৫০০কেজি পিয়াজ উৎপাদন ঠিকঠাক রয়ে গেল। তখন প্রতি কেজি পিয়াজের মূল্য দিতে হবে ৮০টাকা।

বুঝা গেল মোট সম্পদ বৃদ্ধি না করে ইচ্ছামত টাকা ছাপালে যেকোন পণ্যের দাম  দ্বিগুন হারে বেড়ে যাবে। এখই সাথে ডলারের মূল্য বেড়ে যাবে। তাহলে ইচ্ছামত টাকা ছাপানো কোনো সমাধান হতে পারে না।

অভ্যন্তরীন উৎপাদন সেই সাথে মোট সম্পদ বৃদ্ধি করতে পারলেই দেশ উন্নত হওয়া সম্ভব।